হাসপাতালে পড়ে রয়েছে করোনা রোগীর লাশ, ক্ষোভে ফুটছে গোটা মেদিনীপুর শহর - The News Lion

হাসপাতালে পড়ে রয়েছে করোনা রোগীর লাশ, ক্ষোভে ফুটছে গোটা মেদিনীপুর শহর


দি নিউজ লায়ন ;  পুজোর আনন্দে মেতেছিল গোটা জেলা তাই কারও নজরে পড়েনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সেইসব পরিবারের কান্না যাঁদের প্রিয়জন মারা গেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে এই উৎসবেই।একে তো প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর তার সঙ্গে রয়েছে উদ্বেগ কারন সৎকার হয়নি মৃতদেহ গুলির। খড়গপুর, ঘাটাল, শালবনিতে একই চিত্র। 


প্রিয়জনের দেহ সৎকার করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের কাকুতি মিনতিই সার হয়েছে।  জানা গেছে শালবনি কোভিড হাসপাতালে পড়ে রয়েছে ৮টি মৃতদেহ, খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ১টি দেহ। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঠিক ক’টি লাশ রয়েছে বা আদৌ রয়েছে কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি। 


খড়গপুর শহরের চিত্তরঞ্জন নগরে গত ষষ্টির দিন মৃত্যু হয়েছিল আশি বছরের এক বৃদ্ধের। তিনি আইআইটি খড়গপুরের সেই প্রাক্তন কর্মী ছিলেন কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গত ১৭ তারিখ করোনা নিশ্চিত হয় বৃদ্ধের। বৃদ্ধের ছেলে বলেন "প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের দুটি অপশন দেওয়া হয়েছিল, যে হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অথবা বাড়িতে রাখতে পারেন। 


আমরা বাড়িতেই রেখেছিলাম। ২২তারিখ বাবার অবস্থা খারাপ হতেই আমরা বিকালে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে তেমন কিছুই উন্নতি হয়নি। আমরা রাতেই বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। অক্সিজেন দেওয়া আ্যম্বুলেন্সে বাবাকে বাড়ি এনেছিলাম। অক্সিজেন খুলে বাবাকে বাড়িতে আনার কিছুক্ষন পরেই বাবা মারা যান। এরপরই আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রশাসন আমাদের দেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। 


দেহ পরের দিন সকালেই হাসপাতালের মর্গে ঢোকানো হয়। তারপর থেকে দেহ ওখানেই রয়েছে। আজ অবধি সৎকার করতে পারিনি। প্রথম দিন বলেছিল কাগজপত্র তৈরি হয়নি আর এখন কোনোও কথাই বলছেন না। যেদিন পোড়ানো হবে সেদিন আপনাদের জানানো হবে বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে আমরা কোনো পারলৌকিক কাজই করতে পারছিনা কারন নিয়ম অনুসারে দেহের অস্তিত্ব থাকাকালীন পারলৌকিক কাজ করা যায়না।”


খড়গপুর হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে হাসপাতালের মর্গে কোভিড রোগীর মৃতদেহ রয়েছে বলে প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রশাসনের কিছুই করার নেই। ঠিক একই ভাবে শালবনি করোনা হাসপাতালে অন্ততঃ ৮টি দেহ রয়েছে। আবার ঘাটালের গোপমহল গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক চিত্তরঞ্জন কর্মকারের বাড়ির লোকেরাও একই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। ওই শিক্ষক পুজোর মধ্যেই শালবনি করোনা হাসপাতালে মারা যান।


প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের দেহগুলি সাধারণত খড়গপুর খরিদায় মন্দিরতলার শ্মশানে পোড়ানো হয় এবং রাতের বেলায় পোড়ানো হয়। এই কাজটি করতে হয় পুলিশি তত্ত্বাবধানেই সৎকার করতে হয়। মন্দিরতলা সংলগ্ন একটি মন্দিরে পুজো হয়। তাছাড়া এই পুজোর মরসুমে গোটা শহরের  আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব পুলিশকে সামলাতে হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা এই দেহ বয়ে আনার কাজ করেন এবং সৎকার করেন তাঁরা গত সাত মাস ধরে প্রতিটি দিনই এই কাজ করে আসছেন উৎসবের মরশুমে তাঁদের একটু অবকাশ প্রয়োজন ছিল।


মঙ্গলবার সকালে খড়গপুর শহরের বিজেপির মধ্য মন্ডলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপারের কাছে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই সমস্ত দেহই সৎকার করে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে আশ্বাস মিলেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.